ব্লেন্ডার মেশিন দাম: ব্লেন্ডার মূলত একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস, যা প্রতিটি সংসারের নিত্যদিনের রান্নাবান্নার কাজকে অনেক সহজ করে দেয়। দ্রুত কাজ সেরে সময় বাঁচানোর সুবিধার কারণে বর্তমানে বাজারে এই গৃহস্থালি যন্ত্রটির ব্যাপক কদর রয়েছে, আর তাই তো প্রয়োজন অনুযায়ী নানা বাজেটে সবাই এটি সংগ্রহ করছেন।
বাজারের নিত্যনতুন ওঠানামার কারণে এসব ইলেকট্রনিক পণ্যের সুনির্দিষ্ট মূল্য আগে থেকেই বলে দেওয়া কিছুটা কঠিন। তবে আজকের এই আলোচনার মাধ্যমে বাজারে ঠিক কত টাকা থেকে কত টাকার মধ্যে ভালো ব্লেন্ডার মেশিন পাওয়া যায়, সে বিষয়ে আপনি বেশ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার একটি ধারণা পেয়ে যাবেন।
ব্লেন্ডার মেশিন দাম কত
আমাদের দেশে ব্লেন্ডার মেশিনের দাম মূলত এর মডেল, ব্র্যান্ড এবং জারের ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কম-বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ফ্যানের মতোই ব্লেন্ডারের মোটরের শক্তিমত্তা, প্রস্তুতকারক কোম্পানি এবং বাড়তি নানা ফিচারের কারণেই মূলত এর মূল্যে পার্থক্য দেখা যায়।
সাধারণত বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন বাজেট অনুযায়ী নানা ধরণের ব্লেন্ডার পাওয়া যায়। তুলনামূলক সাধারণ মানের একটি ব্লেন্ডার আপনি প্রায় ১৫০০ টাকার কাছাকাছি দামেই পেয়ে যেতে পারেন।
অন্যদিকে, উন্নত ফিচার ও নামীদামী ব্র্যান্ডের ভালো ব্লেন্ডারগুলোর দাম সাধারণত ৩০০০ টাকা থেকে শুরু হয়, এবং এই বাজেটের মধ্যে বাজারে বেশ বৈচিত্র্যময় অনেকগুলো মডেলের মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ভিশন ব্লেন্ডার মেশিন এর দাম
ভিশন ব্লেন্ডারের মূল আকর্ষণ হলো এর দীর্ঘস্থায়ী স্টেইনলেস স্টিলের জার এবং মোটরের শক্তিশালী বহুমুখী ক্ষমতা। বাজারে ভিশনের সাধারণত ৩০০ ওয়াট থেকে শুরু করে ১২০০ ওয়াট পর্যন্ত বিভিন্ন শক্তির মডেল পাওয়া যায়, যা হালকা মশলা বা জুস বানানো থেকে শুরু করে যেকোনো ভারী ব্লেন্ডিংয়ের কাজে চমৎকার পারফর্ম করে।
আরো পড়ুনঃ ওয়ালটন মিনি ফ্রিজ প্রাইস ইন বাংলাদেশ
ওয়ালটনের পাশাপাশি দেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারে ভিশন ব্লেন্ডারও অত্যন্ত সাড়া ফেলেছে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। তাই যারা ওয়ালটন ও ভিশনের মধ্যে সঠিক তুলনামূলক ধারণা পেতে চান, তাদের সুবিধার জন্য ভিশন ব্লেন্ডারের জনপ্রিয় মডেল ও সেগুলোর আনুমানিক দাম নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
- VIS-SBL-011 (750W) এর মূল্য মাত্র ৪,৪৬৯ টাকা
- VIS-SBL-015 (850W) এর মূল্য মাত্র ৪,১৩৯ টাকা
- VIS-SBL-017 (850W) এর মূল্য মাত্র ৪,৯৯৫ টাকা
- VIS-SBL-022 (1100W) এর মূল্য মাত্র ৫,১৯৯ টাকা
- VIS-SBL-023 (1200W) এর মূল্য মাত্র ৫,৫৯৯টাকা
- VIS-PBL-009 (300W) এর মূল্য মাত্র ১,৯৯০ টাকা
ওয়ালটন ব্লেন্ডার মেশিন দাম
বাংলাদেশের বাজারে ওয়ালটন ব্লেন্ডার মেশিন তাদের কোয়ালিটি এবং নানামুখী বৈচিত্র্যের কারণে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। ফলে ক্রেতারা এখন নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী মনের মতো পণ্যটি খুব সহজেই খুঁজে নিতে পারছেন।

দেশীয় জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটন গ্রাহকদের সাধ্যের মধ্যে আধুনিক সব ফিচারযুক্ত নানা মডেলের ব্লেন্ডার বাজারজাত করে থাকে।
পণ্যটির ওয়াট বা কার্যক্ষমতা এবং বিভিন্ন সুবিধার ওপর নির্ভর করে এর মূল্যে কিছু তারতম্য দেখা যায়। আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক ব্লেন্ডারটি বেছে নিতে সাহায্য করবে—এমন কিছু বহুল বিক্রীত মডেল এবং এগুলোর আনুমানিক দাম নিচে তুলে ধরা হলো:
- Walton WBL-13CX25 ২৫০ ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ১,৪৫০ – ১,৯৯৯ টাকা
- Walton WBL-13EX25 ২৫০ ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ১,৬৫০ টাকা
- Walton WBL-13C330N ৩৩০ ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ২,২৯০ টাকা
- Walton WBL-50SL26 ২৬০ ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ১,৪৫০ টাকা
- Walton WBL-12TCG5 ৫০০ ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ৩,৩০০ টাকা
- Walton WBL-15GC40N ৪০০ ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ২,৬৫০ টাকা
- Walton WBL-13PX35N ৩৫০ ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ২,৪২০ টাকা
- Walton WBL-13C225N ৩৫০ ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ২,০৬৫ (১২% ছাড়ে) টাকা
- Walton WBL-15GC40 400ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম২,৪৫০ টাকা
- Walton WBL-15G35 350ওয়াট ব্লেন্ডার মেশিন দাম ২,১৫০ টাকা
সাফরন ব্লেন্ডার মেশিন এর দাম
সাফরন ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডারগুলো চমৎকার কর্মক্ষমতা ও হাতের নাগালের বাজেটের জন্য দেশের বাজারে বেশ বিশ্বস্ত নাম। বিশেষ করে এদের ৩-ইন-১ মাল্টিফাংশনাল ব্লেন্ডারগুলো ক্রেতাদের মাঝে দারুন গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
আপনি যদি গৃহস্থালির কাজে সাফরন ব্লেন্ডার নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে সঠিক মডেলটি বেছে নিতে সুবিধার জন্য নিচে বিভিন্ন ফিচার ও মডেল অনুযায়ী এদের আনুমানিক দামের একটি তালিকা তুলে ধরা হলোঃ
- Saffron Toofan ১২০০ ওয়াট এর দাম ৬,৫০০ টাকা
- Saffron Vitamix Plus ৮৫০ ওয়াট এর দাম ৭,৩৫০ টাকা
- Saffron Kitchen Chef ৮৫০ ওয়াট এর দাম ৫,৭০০ টাকা
- Saffron Vivo ৫৫০ ওয়াট এর দাম ৪,৯৩০ টাকা
ফিলিপস ব্লেন্ডার মেশিন এর দাম
ফিলিপস ব্র্যান্ডের কয়েকটি জনপ্রিয় ব্লেন্ডার মডেলের দাম নিচে দেওয়া হলো:
- Philips HR205 এর মূল্য মাত্র ৩,৬৫০ টাকা
- Philips HL7756/00 এর মূল্য মাত্র ৬,০০০ টাকা
- Philips HL 7757 এর মূল্য মাত্র ৫,৪৯০ টাকা
- Philips HR-1559 এর মূল্য মাত্র ৯,২০০ টাকা
প্যানাসনিক ব্লেন্ডার মেশিন এর দাম
প্যানাসনিক ব্র্যান্ডের কয়েকটি জনপ্রিয় ব্লেন্ডার মডেলের দাম নিচে দেওয়া হলো:
- MX-GM1011 2-In-1 Stainless Steel এর আপডেট দাম ৬,৫০০ টাকা
- MX-AC310-H 1000 Watt এর আপডেট দাম ৮,৩০০ টাকা
- MX-AC300 340W-360W Power Consumption এর আপডেট দাম ৯,৫০০ টাকা
- MX-AE375 Monster Series 2000 Watt Powerful Motor এর আপডেট দাম ১১,৩৫০ টাকা
- MX-AV425 1500 MLMW এর আপডেট দাম ১২,৩০০ টাকা
- MX-AE475 2000 Watt Powerful Motor এর আপডেট দাম ১৩,৫২০ টাকা
ছোট ব্লেন্ডার মেশিনের দাম কত
কম বাজেটে কিংবা হালকা ব্যবহারের জন্য যারা ছোট আকৃতির ব্লেন্ডার খুঁজছেন, তাদের সুবিধার্থে বাজারে নানা ধরণের সাশ্রয়ী মডেলের ব্লেন্ডার রয়েছে। নির্দিষ্ট মডেলভেদে সুনির্দিষ্ট মূল্য বলা কিছুটা কঠিন হলেও, একটি গড় হিসাব থেকে এর খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।
আরো পড়ুনঃ আর এফ এল ১০, ২০, ৩০ ও ৪০ লিটার গিজার এর দাম
সাধারণত, এ ধরনের মিনি বা ছোট সাইজের ব্লেন্ডারগুলো ১,০০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে বেশ সহজেই কিনে নেওয়া যায়।
পণ্যের একুরেট দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আপনার কাঙ্ক্ষিত ব্র্যান্ড ও মডেল নম্বরটি দিয়ে খোঁজ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দৈনন্দিন ছোটখাটো জিনিস গুঁড়ো করা কিংবা ঝটপট ব্লেন্ড করার প্রয়োজন মেটাতে এই কম বাজেটের ফ্লেক্সিবল ব্লেন্ডারগুলো সত্যিই দারুণ কাজ দেয়।
ব্লেন্ডার মেশিন ব্যবহার করার নিয়ম
নতুন কেনা ব্লেন্ডার মেশিন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এবং এর থেকে সেরা কার্যক্ষমতা পেতে এটি সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে চললে ব্লেন্ডারটি যেমন টেকসই হয়, তেমনি দৈনন্দিন কাজগুলোও একদম ঝামেলাহীনভাবে সম্পন্ন করা যায়।
নতুন ব্লেন্ডার মেশিন ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি ও জরুরি কিছু নিয়ম তুলে ধরা হলো:
- কাজ শুরু করার আগে সবসময় দেখে নিন জারের ব্লেড ও অন্যান্য অংশগুলো মোটরের সাথে শক্ত ও সঠিকভাবে আটকে আছে কি না।
- যে খাবার ব্লেন্ড করতে চান, তা পরিমাণমতো জারে দিন; অতিরিক্ত উপাদান একসাথে দিলে মোটরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
- ব্লেন্ডিংয়ের সময় খাবার বাইরে ছিটে পড়া রোধ করতে জারের ওপরের ঢাকনাটি একদম শক্তভাবে আটকে দিন।
- এবার সুইচ অন করে প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিড বা গতির সেটিং নির্বাচন করুন; প্রথম থেকেই একবারে সর্বোচ্চ স্পিড না দিয়ে আস্তে আস্তে গতি বাড়ানো ভালো।
- ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে সবার আগে সুইচের লাইন বন্ধ করে কারেন্টের সকেট থেকে প্লাগটি খুলে নিন।
- সবশেষে জারের ঢাকনা খুলে মিশ্রণটি ঢেলে নিন এবং ব্যবহারের পরপরই জারটি সুন্দরভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।
উপরের নিয়মগুলো ঠিকঠাক মেনে চললে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়ে নিরাপদে ব্লেন্ডার ব্যবহার করা সম্ভব। মূলত, যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতোই ব্লেন্ডার চালানোর সময় সামান্য সতর্ক থাকলে রান্নাঘরের কাজ যেমন দ্রুত মেটে, তেমনি নিশ্চিন্তেও থাকা যায়।
অনলাইন ব্লেন্ডার মেশিন দাম বনাম শোরুম দাম
অনলাইনে ব্লেন্ডার মেশিনের দাম এবং সরাসরি শোরুমের দামের মধ্যে কী ধরণের পার্থক্য থাকে, তা নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা থাকে না। তবে বর্তমান ডিজিটাল সময়ে অনেকেই ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যেখানে মাঝে মধ্যেই অফারের কারণে দামে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়।
আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস মেশিনের স্ট্রিপ এর দাম (Latest Price)
তাই ওয়ালটনের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডার কেনার ক্ষেত্রে অনলাইন নাকি শোরুম—কোথা থেকে নেওয়া আপনার জন্য বেশি সুবিধাজনক হবে, তা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
অনলাইন শপিং ও অফিশিয়াল শোরুমের দামের তারতম্যসহ উভয়ের নানা সুবিধা-অসুবিধা ভালোভাবে জেনে নিলে সঠিক ও সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
১ . অনলাইন দামের সুবিধা
প্রযুক্তির এই সময়ে অনেকেই ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে বেশি পছন্দ করেন, কারণ অনলাইন শপে প্রায়ই বিশেষ ছাড় বা ভিন্ন দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে।
ওয়ালটনের মতো নামী ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনলাইন নাকি শোরুম—কোনটি আপনার জন্য সেরা হবে, তা জানা খুবই জরুরি। অনলাইনে ব্লেন্ডার কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা সাধারণত যেসব বাড়তি সুবিধা পান, তা অনেক সময় দামে ভালো প্রভাব ফেলে:
- বিশেষ মূল্যছাড় ও ডিসকাউন্ট: ওয়ালটন ই-প্লাজা, দারাজ বা অন্যান্য অনলাইন শপিং সাইটগুলোতে প্রায় সময় ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত আকর্ষণীয় ছাড় পাওয়া যায়।
- ডিজিটাল পেমেন্টে ক্যাশব্যাক: বিকাশ, নগদ কিংবা ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড দিয়ে বিল পরিশোধ করলে অতিরিক্ত ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত বাড়তি ক্যাশব্যাক বা ছাড় উপভোগ করা যায়।
- সময় বাঁচানো ও সহজ ডেলিভারি: দোকান ঘুরে সময় নষ্ট করার বা যাতায়াতের কোনো কষ্ট থাকে না। এমনকি অনেক সময় একদম ফ্রিতেই ঘরে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।
- সহজেই দাম যাচাই: ঘরে বসেই এক ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটে গিয়ে বিভিন্ন মডেলের বৈশিষ্ট্য ও দাম তুলনা করে সেরা দামে কেনাকাটা করা যায়।
- পণ্য হাতে পেয়ে পেমেন্ট: ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা থাকায় পণ্য হাতে পেয়ে দেখে শুনে তারপর টাকা পরিশোধ করার সুযোগ পাওয়া যায়।
২. শোরুম দামের সুবিধা
অনলাইনের নানা সুবিধার পাশাপাশি সরাসরি শোরুমে গিয়ে ব্লেন্ডার মেশিন কেনার মধ্যেও বেশ কিছু বড় সুবিধা রয়েছে, বিশেষ করে যখন পণ্যের আসল গুণমান নিজ চোখে পরখ করে নেওয়া অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়ে।
- স্বচক্ষে পরখ করার সুযোগ: শোরুমে সরাসরি গিয়ে ব্লেন্ডারটি হাতে ধরে এর বিল্ড কোয়ালিটি ও ফিনিশিং কেমন, তা ভালোভাবে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়।
- সরাসরি দরদাম ও ওয়ারেন্টি গ্রহণ: বিক্রেতার সাথে সামনাসামনি কথা বলে দাম নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকে এবং কেনাকাটার পরপরই অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি কার্ড একদম নিশ্চিতভাবে বুঝে নেওয়া যায়।
- তাৎক্ষণিক টেস্ট ও সার্ভিস: কেনার মুহূর্তেই শোরুমে কারেন্ট দিয়ে চালিয়ে বা টেস্ট করে দেখার সুযোগ থাকে, ফলে শুরুতেই একদম ভালো জিনিসটি পাওয়া যায়।
- পছন্দসই রঙ ও মডেল বাছাই: ডিসপ্লেতে থাকা নানা রঙের ও ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের মডেলের মধ্য থেকে নিজের মনের মতো ব্লেন্ডারটি সহজে বেছে নেওয়া যায়।
- সরাসরি ব্যবহারের ধারণা ও সহায়তা: বিক্রয় প্রতিনিধি বা স্টাফদের কাছ থেকে ব্লেন্ডারটির ব্যবহার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সরাসরি বুঝে নেওয়া সম্ভব হয়।
- ছাড়ের সুবিধা: শোরুমে সচরাচর মূল্যছাড় একটু কম হলেও উৎসব-পার্বণ বা বিশেষ প্রমোশনাল অফারের সময় ভালো ডিসকাউন্ট পাওয়া যেতে পারে।
ভালো মানের ব্লেন্ডার মেশিন কেনার টিপস
একটি মানসম্মত ব্লেন্ডার কেনা মানে রান্নাঘরের কাজের ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে ফেলা। আপনার চাহিদা আর সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে সেরা ও টেকসই ব্লেন্ডারটি খুঁজে নিতে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার, তার কিছু প্রয়োজনীয় টিপস নিচে তুলে ধরা হলো:
- মোটরের শক্তিমত্তা: ব্লেন্ডারের পারফর্মেন্স মূলত এর মোটরের ওপরই নির্ভর করে। শক্ত মসলা পেষা বা বরফ ক্রাশ করার মতো কঠিন কাজের জন্য অন্তত ৭৫০ ওয়াট বা তার বেশি শক্তির মোটর বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
- জারের উপাদান ও সংখ্যা: অন্তত তিনটি জার রয়েছে—এমন সেট নেওয়া ভালো, যাতে জুস বানানো, বড় ধরনের গ্রাইন্ডিং এবং ছোটখাটো মসলা বা চাটনি পেষার কাজ আলাদাভাবে করা যায়। পাশাপাশি জারের উপাদানগুলো স্টেইনলেস স্টিল বা মজবুত পলিকার্বোনেটের কি না, তা দেখে নিন।
- ধারালো ব্লেডের ধরন: ব্লেন্ডারের ব্লেডগুলো যেন ভালো মানের স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি হয় এবং সহজে খুলে ধোয়ামোছা করা যায়। মসৃণভাবে যেকোনো কিছু ব্লেন্ড করার জন্য শক্তিশালী ৬-হেডের ব্লেড বেশ কার্যকর।
- স্পিড কন্ট্রোল ও পালস অপশন: অন্তত ৩টি স্পিড সেটিংসের পাশাপাশি একটি ‘পালস’ (Pulse) ফিচার আছে এমন মডেল কেনাই উত্তম। ঝটপট বা নিজের সুবিধা অনুযায়ী উপাদান মেলাতে এই পালস অপশন দারুণ কাজে দেয়।
- নিরাপত্তা সুবিধা: ব্লেন্ডারে অটোমেটিক ওভারলোড প্রোটেকশন ফিচার আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন। অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে বা মোটর চাপ সহ্য করতে না পারলে এটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়, যা মোটর পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
- নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড ও ওয়ারেন্টি: ওয়ালটন, ভিশন কিংবা সাফরনের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য বেছে নেওয়া বেশি নিরাপদ। কেনার সময় মোটরের ওপর যেন অন্তত ১ থেকে ২ বছরের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি থাকে, তা নিশ্চিত করুন; ওয়ারেন্টি যত বেশি হবে, ব্যবহারেও তত নিশ্চিন্ত থাকা যাবে।
এই সহজ বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনি কম খরচেই দীর্ঘস্থায়ী, শক্তিশালী এবং মানসম্মত একটি ব্লেন্ডার কিনে নিতে পারবেন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)
স্টেইনলেস স্টিল নাকি প্লাস্টিক কোন জারের ব্লেন্ডার বেশি স্থায়ী?
স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার দিক থেকে স্টেইনলেস স্টিলের জার সবচেয়ে সেরা। এগুলো সহজে ভাঙে না, দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মরিচা পড়ে না। অন্যদিকে স্বচ্ছ পলিকার্বোনেট বা প্লাস্টিকের জার জুস বা মিল্কশেক বানানোর সময় ভেতরের উপাদান দেখার জন্য বেশ সুবিধাজনক।
ব্লেন্ডার একটানা কতক্ষণ চালানো নিরাপদ?
ব্লেন্ডার কখনোই একটানা ১-২ মিনিটের বেশি চালানো উচিত নয়। একটানা চালিয়ে রাখলে মোটরের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে এবং এটি পুড়ে যেতে পারে। তাই ১০-১৫ সেকেন্ড ব্লেন্ড করার পর সামান্য বিরতি দিয়ে আবার চালানো ভালো।
শুকনো মসলা ও ভেজা উপাদান কি একই জারে ব্লেন্ড করা যাবে?
না, শুকনো মসলার জন্য ছোট ‘গ্রাইন্ডিং জার’ এবং ভেজা উপাদান বা জুসের জন্য আলাদা ‘লিকুইডাইজিং জার’ ব্যবহার করা উচিত। ভুল জারে ব্লেন্ড করলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না এবং ব্লেড বা মোটরের ক্ষতি হতে পারে।
ব্লেন্ডারের জার লিক করলে বা নিচ দিয়ে পানি পড়লে কী করণীয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জারের নিচের রাবার রিং (Gasket) ঢিলা বা নষ্ট হয়ে গেলে লিক করে। নতুন একটি রাবার রিং বদলে নিলেই এই সমস্যার সহজ সমাধান হয়ে যায়।
ব্লেন্ডার চালানোর সময় অতিরিক্ত গন্ধ বা ধোঁয়া বের হলে কী করবেন?
নতুন ব্লেন্ডার প্রথম ২-৩ বার চালানোর সময় মোটরের বার্নিশ গরম হয়ে হালকা গন্ধ বের হওয়া স্বাভাবিক। তবে পুরোনো ব্লেন্ডার থেকে ধোঁয়া বা তীব্র পোড়া গন্ধ বের হলে সাথে সাথে সুইচ বন্ধ করে প্লাগ খুলে ফেলুন এবং সার্ভিস সেন্টারে দেখান।
লেখকের শেষ মন্তব্য
বাংলাদেশে ব্লেন্ডারের দাম ঠিক কেমন হবে, তা মূলত আপনার ব্যবহারের ধরন, মোটরের প্রয়োজনীয় শক্তি এবং আপনি কোথা থেকে কিনছেন তার ওপর নির্ভর করে। তাই শুধু কম দাম দেখে দুর্বল কোনো ব্লেন্ডার কিনে টাকা নষ্ট করা একদমই ঠিক হবে না।
কিছুটা বাজেট বাড়িয়ে হলেও মোটরের ক্ষমতা (অন্তত ৭৫০ ওয়াট) এবং ওয়ারেন্টির বিষয়টি ভালোভাবে দেখে কেনা উচিত। কারণ ব্লেন্ডার যদি ঠিকমতো কাজ না করে আর মসলা সুন্দরভাবে মিহি না হয়, তবে রান্নার আসল আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে!

