ধান কাটার মেশিনের দাম কত: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ধানই মূল ফসল, আর আজকাল আমাদের দেশে কৃষিকাজে কায়িক শ্রমের জায়গায় নানা ধরনের আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ধান কাটার সময় শ্রমিকের অভাব আর বাড়তি মজুরির চিন্তায় অনেক সময়ই কৃষকদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আপনি যদি নিজের জমিতে ব্যবহার করার জন্য কিংবা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে একটি ধান কাটার মেশিন কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এই আলোচনাটি আপনার জন্যই। বর্তমান বাজারে নানা মডেলের ধান কাটার মেশিনের দরদাম এবং কোনটি আপনার প্রয়োজনে সবচেয়ে উপযোগী হবে, চলুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ধান কাটার মেশিনের দাম কত
আমাদের দেশে এখন বেশ কিছু পরিচিত কোম্পানির ধান কাটার মেশিন বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এগুলোর দাম সাধারণত যন্ত্রটির গঠন, ক্ষমতা এবং এটি কত দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারে তার ওপর নির্ভর করেই ঠিক হয়।
আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশে 12 ভোল্ট ব্যাটারি দাম কত?
আপনার বোঝার সুবিধার্থে দেশের বাজারে প্রচলিত কয়েকটি জনপ্রিয় মডেল এবং সেগুলোর আনুমানিক মূল্য নিয়ে তুলে ধরা হলো:
- রিপার হেডার: সাধারণত ৬০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাওয়া ম্যানুয়াল রিপার হেডার স্কেল বা মেশিনগুলো মূলত ছোট জমি বা কম আবাদের জায়গায় ধান কাটার জন্য দারুণ উপযোগী।
- পাওয়ার রিপার (১০ এইচপি পাওয়ার টিলার): প্রায় ১,৪৫,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০ টাকার বাজেটে পাওয়া এই পাওয়ার রিপারগুলো মাঝারি ধরনের জমিতে ধান কাটার জন্য চমৎকার একটি সমাধান।
- মিনি কম্বাইন হারভেস্টার: ১,৭০,০০০ টাকার আশপাশে পাওয়া যাওয়া এই মডেলটি স্বল্প পরিমাণের জমিতে কার্যকরের পাশাপাশি কৃষিকাজে খরচ কমানোর বেশ ভালো একটি উপায়।
- এসিআই রিপার (যেমন- Vikyno AR-120): এসিআই-এর মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের রিপারগুলোর মূল দাম ভর্তুকি ছাড়া আনুমানিক ১,৯০,০০০ টাকার মতো হলেও সরকারি ভর্তুকির আওতায় এটি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে কেনা যায়।
- সেল্ফ প্রপেলড কম্বাইন হারভেস্টার: প্রায় ১৫,৬০,০০০ টাকা থেকে ১৫,৯০,০০০ টাকার মধ্যে দাম থাকা এই বড় মডেলটি মূলত সুবিশাল জমিতে ধান কাটার কাজে সবচেয়ে বেশি উপযোগী।
এ সি আই ধান কাটার মেশিন দাম কত
এসিআই (ACI) বাংলাদেশে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ধান কাটার মেশিনের (রিপার ও কম্বাইন হারভেস্টার) ক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য একটি নাম। সরকারি অনুদান বা ভর্তুকির কারণে বর্তমানে কৃষকদের কাছে এসব মেশিনের চাহিদা বেশ তুঙ্গে।

এসিআই ধান কাটার মেশিনের আপডেট মূল্য, মডেল, সুবিধা এবং ভর্তুকির বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. এসিআই রাইস/প্যাডি রিপার
- ছোট ও মাঝারি জমিতে দ্রুত ধান কাটার জন্য রিপার মেশিন অত্যন্ত জনপ্রিয়।
- ACI Vikyno AR-120 Reaper:
- নিয়মিত বাজারদর: ১,৮০,০০০ – ১,৯০,০০০ টাকা (প্রায়)
- সরকারি ভর্তুকি সুবিধা: দেশের অঞ্চলভেদে (হাওর বা উপকূলীয় এলাকায় ৭০% এবং সাধারণ এলাকায় ৫০-৬০%) ভর্তুকি পাওয়া যায়।
- ভর্তুকিতে মূল্য: মাত্র ৫০,০০০ – ৮০,০০০ টাকা (আনুমানিক)।
- বৈশিষ্ট্য: এটি পেট্রোল বা ডিজেল চালিত ছোট পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিন দ্বারা চলে। দিনে ৩-৪ একর জমির ধান সহজে কাটতে পারে।
২. এসিআই কম্বাইন হারভেস্টার
যেসব মেশিন দিয়ে একই সাথে ধান কাটা, মাড়াই করা, ঝাড়াই করা এবং বস্তাবন্দী করার কাজ সম্পন্ন হয়। এগুলো বড় জমি বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য সেরা।
ACI Yanmar Combine Harvester (AW70V / YH880)
- নিয়মিত বাজারদর: ২৫,০০,০০০ – ২৮,০০,০০০ টাকা (প্রায়)
- ভর্তুকিতে মূল্য: ১৪,০০,০০০ – ১৬,০০,০০০ টাকা (منطقة/অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হয়)।
- বৈশিষ্ট্য: জাপানি প্রযুক্তির তৈরি ইয়ানমার মডেলগুলো কাঁদা মাটিতেও সহজে চলতে পারে। এটি দিয়ে খুব কম সময়ে বিশাল জমির ধান ও গম সম্পূর্ণভাবে মাড়াই করে ঘরে তোলা সম্ভব।
ACI Kubota / ACI World Combine Harvester
- নিয়মিত বাজারদর: ১৯,০০,০০০ – ২২,০০,০০০ টাকা
- ভর্তুকিতে মূল্য: ১০,০০,০০০ – ১২,৫০,০০০ টাকা
- বৈশিষ্ট্য: জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং কম মজুরিতে বেশি কাজের জন্য ভীষণ উপযোগী।
এসিআই ধান কাটার মেশিনের বিশেষ সুবিধাসমূহ
- সময় ও শ্রম সাশ্রয়: কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করলে ৮০% পর্যন্ত শ্রমিক খরচ এবং ৯০% পর্যন্ত সময় বাঁচে।
- সহজ মেকানিকাল সাপোর্ট: বাংলাদেশে এসিআই-এর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক থাকায় এর স্পেয়ার পার্টস ও সার্ভিসিং হাতের কাছেই পাওয়া যায়।
- সরকারি ভর্তুকি সুবিধা: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এসিআই-এর মেশিনে ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা মেলে।
কীভাবে ভর্তুকিতে এসিআই মেশিন কিনবেন?
- স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে ভর্তুকির জন্য আবেদন করতে হবে।
- উপজেলা কৃষি কমিটির বাছাই শেষে নাম তালিকায় উঠলে এসিআই মোটর্স-এর অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে মেশিন সংগ্রহ করা যায়।
রিপার ধান কাটা মেশিনের দাম কত
বাংলাদেশে ধান কাটার রিপার মেশিনের দাম মূলত এর ধরণ, ইঞ্জিনের ক্ষমতা (HP) এবং ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ মিনি রিপার থেকে শুরু করে পাওয়ার টিলার চালিত রিপারের দরদামের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
আরো পড়ুনঃ গাজী ট্যাংক ৫০০ লিটার দাম কত
হ্যান্ড রিপার / ব্রাশ কাটার
- দাম: ১২,০০০ টাকা – ২৫,০০০ টাকা (২-স্ট্রোক ও ৪-স্ট্রোক ইঞ্জিনের ওপর ভিত্তি করে)।
- ব্যবহার: ছোট জমিতে কাঁধে ঝুলিয়ে সহজে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার যুক্ত রিপার হেডার
- দাম: ৬০,০০০ টাকা – ৭৫,০০০ টাকা।
- ব্যবহার: পাওয়ার টিলার বা ছোট ট্রলি ট্রাক্টরের সাথে সংযুক্ত করে ধান ও গম কাটা হয়।
স্বয়ংক্রিয় চালিত পাওয়ার রিপার
- দাম: ১,৪৫,০০০ টাকা – ১,৯০,০০০ টাকা (১০ এইচপি পাওয়ার ইঞ্জিনের রিপার)।
- ব্যবহার: মাঝারি ও বড় জমিতে অল্প সময়ে দ্রুত ধান কাটার জন্য বেশ জনপ্রিয়।
- এসিআই রিপার
- সাধারণ বাজারমূল্য: ১,২৫,০০০ টাকা – ১,৯০,০০০ টাকা।
- সরকারি ভর্তুকিতে: কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫০% থেকে ৭০% ভর্তুকির আওতায় এই রিপারগুলো মাত্র ৫০,০০০ টাকা থেকে ৮০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
মিনি ধান কাটার মেশিনের দাম কত
আমাদের দেশের কৃষিতে মিনি ধান কাটার যন্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কৃষকদের মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আকৃতিতে ছোট ও বেশ হালকা হওয়ায় যন্ত্রটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা-নেওয়া করা অত্যন্ত সহজ।
ডিজেল কিংবা পেট্রোল ইঞ্জিনে পরিচালিত এই যন্ত্রটি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ ধান কেটে ফেলে, যা চাষিদের কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মূলত এর চমৎকার কাজের দক্ষতা এবং সহজ পরিচালন প্রণালীর জন্যই এটি কৃষকদের কাছে এত পছন্দনীয়।
বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং তাদের মডেলের দাম
- কুবোটা (Kubota): অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই হিসেবে পরিচিত এই ব্র্যান্ডের মেশিনগুলো সাধারণত ৫০,০০০ টাকা থেকে ৭০,০০০ টাকার মধ্যে কেনা যায়।
- মাহিন্দ্রা (Mahindra): ভালো মান এবং বাজেটের মধ্যে হওয়ার কারণে মাহিন্দ্রার মেশিনগুলোর দারুণ চাহিদা রয়েছে, এগুলোর দাম পড়ে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা।
- জন ডিয়ার (John Deere): যারা বাড়তি শক্তপোক্ত ও আধুনিক কার্যক্ষমতার যন্ত্র চান তাদের কাছে এটি বেশ পছন্দের, তবে এগুলোর দরদাম কিছুটা বেশি—প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা।
- ইউনি-ট্রাক (Uni-Truck): ছোট ও মাঝারি চাষিদের জন্য ইউনি-ট্রাক চমৎকার একটি সমাধান, যা ৩৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার বাজেটের মধ্যেই পেয়ে যাবেন।
ধান কাটার মেশিনের ধরণ
কৃষকদের নানা ধরন ও চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বর্তমানে আমাদের দেশের বাজারে হাতে চালিত ছোট যন্ত্র থেকে শুরু করে ট্রাক্টরে যুক্ত করে ব্যবহারের উপযোগী রকমারি হারভেস্টার মিলছে।
ধান কাটার কাজে গতি আনতে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক ও কার্যকর মেশিন বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছে, যেগুলোর মধ্য থেকে আপনি নিজের সুবিধামতো উপযুক্তটি বেছে নিতে পারেন। এমনই কয়েকটি লক্ষণীয় যন্ত্রের কথা নিচে তুলে ধরা হলো:
২-স্ট্রোক রাইস হার্ভেস্টার মেশিন: ২-স্ট্রোক ইঞ্জিন বিশিষ্ট এই মেশিনগুলো আকৃতিতে ছোট ও ওজনে বেশ হালকা হওয়ায় যেকোনো ছোট জমিতে সহজে ব্যবহার করা যায় এবং যে কেউ এটি সাবলীলভাবে চালাতে পারেন। এর কাটিং অংশটি কিছুটা সরু হওয়ায় শারীরিক খাটুনি ছাড়াই অল্প সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ধান কেটে ফেলা সম্ভব।
৪-স্ট্রোক রাইস হার্ভেস্টার মেশিন: ৪-স্ট্রোক চালিত এই শক্তিশালী মেশিনগুলো মাঝারি ও বড় আকারের জমিতে ধান কাটার কাজে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। ২-স্ট্রোকের চেয়ে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় এটি একবারে অনেকটা অংশের ধান একসাথে কেটে ফেলতে পারে, যা বড় জমির কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি খরচও অনেকটা কমিয়ে দেয়।
কম্বাইন্ড রাইস হার্ভেস্টার মেশিন: আধুনিক প্রযুক্তির এই বহুমুখী মেশিনটি বিশাল আকৃতির জমিতে ধান কাটার জন্য দারুণ উপযোগী, কারণ এটি দিয়ে একই সাথে একাধিক কাজ সম্পন্ন করা যায়।
এটি ধান কাটার পাশাপাশি মাড়াই, খড় পৃথকীকরণ এবং ঝাড়াই করে পরিষ্কার ধান পাত্রে জমা করার কাজ একাই সেরে ফেলে, ফলে সময় ও কায়িক শ্রম দুটোই প্রচুর পরিমাণে বাঁচে।
ধান কাটার মেশিন কেনার সময় করণীয়
একটি ধান কাটার যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক খেয়াল রাখা দরকার। প্রথমেই নিজের আর্থিক সামর্থ্য এবং কাজের চাহিদা কতটুকু, সে বিষয়টি স্পষ্ট করে নিন। যেহেতু দেশের বাজারে নানা ব্র্যান্ড ও মডেল ভেদে মেশিনের দরদামে পার্থক্য থাকে, তাই আপনার বাজেটের ভেতরে যেটি সবচেয়ে কার্যকরী সেটি নির্বাচন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আরো পড়ুনঃ গাজী সিঙ্গেল গ্যাসের চুলার দাম
একই সাথে বাজারে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যন্ত্রগুলোর কার্যক্ষমতা যাচাই করে দেখুন যে কোনটি আপনার জমির আকার ও চাষাবাদের পদ্ধতির সাথে সবচেয়ে ভালোভাবে খাপ খায়। ক্রয়ের সময় এসব বিষয় মাথায় রেখে দেখে-শুনে সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘ দিন কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারবেন।
- মেশিনের ধরণ: দেশের বাজারে বর্তমানে কম্বাইন হারভেস্টার, প্যাডি রাইস কাটার কিংবা মিনি ধান কাটার মেশিনের মতো নানা প্রযুক্তির যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাই ক্রয়ের আগেই নিজের কাজের পরিসরের সাথে সবচেয়ে মানানসই ধরণটি নিশ্চিত হয়ে নিন।
- মেশিনের কার্যক্ষমতা: আপনার জমির আয়তন এবং উৎপাদিত ধানের পরিমাণের ওপর নির্ভর করেই মেশিনের সঠিক সক্ষমতা বাছাই করা উচিত, যাতে কাজের সময় সেরা আউটপুট পাওয়া যায়।
- মেশিনের দাম যাচাই: ব্র্যান্ড, মডেল ও প্রযুক্তির ভিন্নতার কারণে দরদামে পার্থক্য হয়, তাই নিজের সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর যন্ত্রটি পেতে আগেভাগে বর্তমান বাজারদর পরখ করে নেওয়া প্রয়োজন।
- কাজের ধরণ: ধান কাটার পাশাপাশি মাড়াই কিংবা সংগ্রহের মতো আর কোন কোন কাজগুলো আপনার দরকার, তা শুরুতেই নির্ধারণ করে নিলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা সুবিধাটি বেছে নেওয়া সহজ হবে।
- মেশিনের ক্ষমতা: জমির আকার বড় হলে এবং ধানের পরিমাণ বেশি থাকলে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিশালী মেশিন চয়ন করা বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
- মেশিনের বিল্ড কোয়ালিটি: মাঠে বৈরী আবহাওয়ায় টানা কাজ করার উপযোগী ও টেকসই উপাদান দিয়ে তৈরি কি না তা দেখে নেওয়া জরুরি, যেন যন্ত্রটি সহজে নষ্ট না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী সেবা দিতে পারে।
- রক্ষণাবেক্ষণ: চালানো, যত্ন নেওয়া ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সহজ কি না এবং ব্যবহারের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে কি না তা খেয়াল রাখলে দীর্ঘ দিন স্বাচ্ছন্দ্যে মেশিনটি ব্যবহার করা যাবে।
- বিক্রয়োত্তর সেবা: যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত মেরামতের জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট হাতের কাছে সহজেই মিলবে কি না, তা কেনাকাটার আগেই নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
ধান কাটার মেশিন কেনার ক্ষেত্রে সর্বদা বিক্রয়োত্তর সেবা ও সহজে রক্ষণাবেক্ষণের সুব্যবস্থা প্রদান করে—এমন আস্থাশূল প্রস্তুতকারক বা ডিলার নির্বাচন করা উচিত।
কোনো মেশিন চূড়ান্ত করার আগে বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো কৃষকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া দারুণ এক পদক্ষেপ, কারণ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে তারা আপনাকে একদম সঠিক মডেলটি বেছে নিতে পথ দেখাতে পারবেন।
এর পাশাপাশি বর্তমানে কোনো সরকারি ভর্তুকি বা বিশেষ প্রণোদনার সুবিধা মিলছে কি না, সে খোঁজ নেওয়াও জরুরি। কেননা এ ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কৃষকদের জন্য আধুনিক যন্ত্র কেনার বিষয়টি অনেকটাই সাশ্রয়ী ও সহজ করে দেয়।
লেখকের শেষ মন্তব্য
বর্তমান সময়ে কৃষিকাজে গতি আনতে ধান কাটার যন্ত্রের বিকল্প নেই। এটি চাষিদের শারীরিক পরিশ্রম ও সময় বহুগুণ বাঁচিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো কাজটিকে অনেক বেশি সহজ করে তোলে। বর্তমানে আমাদের দেশের বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির রকমারি মডেলের মেশিন দেখতে পাওয়া যায়, যেগুলোর দরদামও ভিন্ন ভিন্ন।
তাই নিজের আর্থিক সাধ্য ও কাজের পরিধি বিবেচনা করে উপযুক্ত যন্ত্রটি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সেই সাথে সরকারি কোনো প্রণোদনা বা ভর্তুকির সুযোগ সুবিধা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নজর রাখলে বেশ লাভবান হওয়া সম্ভব।
আশা করি, ধান কাটার মেশিনের দরদাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো আপনাদের কাজে আসবে। এ বিষয়ে আরও কোনো পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন, আমরা খুব শীঘ্রই সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তার চেষ্টা করব।


Pingback: ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০ ও ৫০০ কেজি ওজন মাপার মেশিনের দাম